সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুরমা নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের দাবি ধীরে চলছে চারলেন প্রকল্পের কাজ ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক জন্মজয়ন্তীতে কবি নজরুল ইসলামকে স্মরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ”

টাঙ্গুয়ার হাওরে মাটি কাটার দুঃসাহস : জরিমানাই কি যথেষ্ট?

  • আপলোড সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন
টাঙ্গুয়ার হাওরে মাটি কাটার দুঃসাহস : জরিমানাই কি যথেষ্ট?
টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের নয়, গোটা দেশের একটি অমূল্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই রামসার সাইট ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) দীর্ঘদিন ধরেই নানা রকম পরিবেশগত হুমকির মুখে রয়েছে। সর্বশেষ তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের হিজল-করচবাগ এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কর্তনের ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো- আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকৃতি ধ্বংসের প্রবণতা এখনো বন্ধ হয়নি। ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে হাওরের ভেতর থেকে মাটি কর্তন শুধু বেআইনি নয়, এটি সরাসরি পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর আঘাত। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই কাজে জড়িত ছিলেন ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি নিজেই। যার দায়িত্ব ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করা, তিনিই যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে তদারকির ঘাটতি কোথায় - সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে অবৈধভাবে কাটা মাটি পুনঃস্থাপনের নির্দেশ পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন থেকে যায়- এই জরিমানা কি ভবিষ্যতে এমন অপরাধ ঠেকাতে যথেষ্ট হবে? নাকি এটি কেবল নিয়মরক্ষার একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকবে? বাস্তবতা হলো, টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় মাটি কর্তন, গাছ নিধন, অবৈধ স্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন - সবকিছু মিলেই হাওরের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। পিআইসি গঠনের সময় স্বচ্ছতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হলে এই ধরনের অপকর্ম বারবার ঘটতেই থাকবে। আমাদের স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে- টাঙ্গুয়ার হাওর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার জায়গা নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার। তাই শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজন হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পিআইসি বাতিল, প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন এবং নিয়মিত পরিবেশগত নজরদারি জোরদার করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান প্রমাণ করে, চাইলে আইন প্রয়োগ সম্ভব। এখন দরকার ধারাবাহিকতা ও কঠোরতা। পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে কোনো আপস নয় - এই বার্তাটি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করাই আজ সময়ের দাবি। আমাদের মনে রাখতে হবে, টাঙ্গুয়ার হাওর বাঁচলে বাঁচবে প্রকৃতি, বাঁচবে মানুষ। আর সেই দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স